পর্দা কেনার আগে যে ১০টি বিষয় জেনে নেবেন
পর্দা কেনার আগে সামান্য প্রস্তুতি নিলে ভুল সিদ্ধান্ত এড়ানো যায় এবং পছন্দের পর্দা সহজেই পাওয়া যায়। নিচের ১০টি বিষয় মাথায় রাখলে আপনার ঘরের জন্য সঠিক ও টেকসই পর্দা বেছে নেওয়া অনেক সহজ হবে।
১. আগে বাজেট ঠিক করুন
শোরুমে ঢোকার আগেই ঠিক করুন কত খরচ করবেন। মনে রাখবেন, পর্দার খরচ শুধু কাপড়ের দামে সীমাবদ্ধ নয়। পুরো বাড়ির জন্য একসাথে বাজেট না করে ঘরভিত্তিক ভাগ করুন। লিভিং রুম ও মাস্টার বেডরুমে তুলনামূলক বেশি বিনিয়োগ করলে ফল ভালো পাওয়া যায়। এতে যুক্ত হয়:
- কাপড়ের মূল্য
- সেলাই ও লাইনিংয়ের খরচ
- রড বা ট্র্যাকের দাম
- ইনস্টলেশন চার্জ
২. সঠিক মাপ নিন
ভুল মাপই পর্দা কেনার সবচেয়ে বড় সমস্যা। ছোট পর্দা দেখতে অপরিপাটি লাগে, আর বেশি বড় হলে মেঝেতে লুটোয়। মাপ কীভাবে নেবেন, তা বিস্তারিত জানতে আমাদের ফ্ল্যাটের জানালার মাপ নেওয়ার গাইড দেখে নিতে পারেন।
- প্রস্থ ও উচ্চতা ফ্রেমের একাধিক জায়গায় মাপুন।
- রডের দুই পাশে ৬ থেকে ১২ ইঞ্চি বাড়তি জায়গা রাখুন।
- কাপড় রডের দৈর্ঘ্যের প্রায় ১.৫ থেকে ২ গুণ ধরুন।
৩. কাপড়ের ধরন বুঝে নিন
প্রতিটি কাপড়ের চরিত্র আলাদা। কাপড় কেনার আগে নিজের চাহিদা ঠিক করুন, শুধু ডিজাইন দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন না। সাধারণত যেসব ধরন পাওয়া যায়:
- সিয়ার (পাতলা): হালকা আলো ঢুকতে দেয়, ঘর খোলামেলা দেখায়।
- ব্ল্যাকআউট: আলো প্রায় পুরো আটকে দেয়, বেডরুমের জন্য উপযোগী।
- ভেলভেট: পুরু ও জমকালো, তবে ধুলো জমার প্রবণতা বেশি।
- লিনেন বা কটন মিক্স: প্রাকৃতিক ও আরামদায়ক অনুভূতি দেয়।
- পলিয়েস্টার মিশ্রণ: টেকসই ও যত্ন নেওয়া সহজ।
৪. ঘরের ব্যবহার অনুযায়ী পর্দা বাছুন
একই পর্দা সব ঘরে মানায় না।
- বেডরুম: ব্ল্যাকআউট বা ডাবল লেয়ার, যাতে ঘুমের সময় আলো ও শব্দের বিরক্তি কম হয়।
- লিভিং রুম: সিয়ারের সাথে ভারী পর্দার সমন্বয়। দিনে হালকা আলো, রাতে প্রাইভেসি।
- কিচেন: সহজে ধোয়া যায় এমন ছোট ও হালকা পর্দা বা ব্লাইন্ডস।
- ব্যালকনি: রোদ ও বৃষ্টির ছাঁট সামলাতে পারে এমন কাপড়।
- অফিস বা কর্মক্ষেত্র: আলো নিয়ন্ত্রণের জন্য রোলার বা জেব্রা ব্লাইন্ডস।
৫. আলো ও গোপনীয়তার প্রয়োজন ভাবুন
ঢাকার বহুতল ভবনে জানালা অনেক সময় প্রতিবেশীর ফ্ল্যাটের মুখোমুখি থাকে। তাই দিনের বেলায় আলো আসা এবং রাতে বাইরে থেকে ভেতরটা না দেখা, এই দুটি সুবিধা একসাথে চাইলে ডাবল লেয়ার পর্দা ভালো কাজ করে। সামনে হালকা সিয়ার, পেছনে ঘন কাপড়।
পশ্চিম বা দক্ষিণমুখী জানালায় বিকেলের রোদ বেশি আসে। এসব জায়গায় আলো ও তাপ আটকানো কাপড় বেছে নেওয়া ভালো।
৬. ঢাকার আবহাওয়া ও পরিবেশের কথা মাথায় রাখুন
ঢাকায় গরম, আর্দ্রতা ও ধুলো একসাথে চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। কেনার সময় কাপড়টি ধোয়ার নিয়ম আগে জেনে নিন। ওয়াশেবল না ড্রাই ক্লিন, তা জানা থাকলে পরে ঝামেলা কমে। তাই:
- খুব ভারী বা পুরু কাপড় সব ঘরে অস্বস্তি বাড়াতে পারে।
- আর্দ্র আবহাওয়ায় কিছু কাপড়ে স্যাঁতসেঁতে গন্ধ বা ছত্রাক হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
- ধুলোর কারণে সহজে পরিষ্কার করা যায় এমন কাপড় সুবিধাজনক।
- রোদে কিছু রং ফিকে হয়ে যায়, তাই রোদ-সহনশীল কাপড় ভালো।
৭. ঘরের রং ও ইন্টেরিয়রের সাথে মিল দেখুন
ছোট একটি কাপড়ের নমুনা বাড়িতে নিয়ে গিয়ে দিনের আলো ও রাতের বাতিতে দেখে নিলে রং নিয়ে ভুল কম হয়। পর্দা একা সুন্দর হলেই হয় না, পুরো ঘরের সাথে মানাতে হবে।
- দেয়ালের রং হালকা হলে পর্দায় গাঢ় বা বৈপরীত্যের রং ব্যবহার করা যায়।
- দেয়াল গাঢ় হলে পর্দা হালকা বা নিরপেক্ষ রঙের রাখলে ঘর ভারী দেখায় না।
- ছোট ঘরে হালকা রঙের পর্দা ঘরকে বড় দেখায়।
- সোফা, কার্পেট বা কুশনের রঙের সাথে একটি মিল রাখুন।
৮. পর্দার স্টাইল ও ঝোলানোর ব্যবস্থা ঠিক করুন
পর্দার ধরনের সাথে রড বা ট্র্যাকের ধরন মেলাতে হবে। ট্র্যাক সিস্টেম দেয়ালে বা সিলিংয়ে বসানো যায়, আর সিলিং-মাউন্ট করলে পর্দা সিলিং থেকে মেঝে পর্যন্ত নেমে ঘর উঁচু দেখায়।
- আইলেট বা রিং পর্দা: রডে সহজে সরে, আধুনিক ফ্ল্যাটে জনপ্রিয়।
- পিন্ট প্লিট বা প্লিটেড: ট্র্যাকে ভালো মানায়, গোছানো ভাঁজ দেয়।
- রোলার ও জেব্রা ব্লাইন্ডস: কম জায়গা নেয়, আলো নিয়ন্ত্রণ সহজ।
- রোমান শেড: ঘরে নরম ও পরিপাটি ভাব আনে।
৯. সেলাই, লাইনিং ও ফিনিশিংয়ের মান যাচাই করুন
ভালো কাপড়ও খারাপ সেলাইয়ে নষ্ট হয়ে যায়। একই ঘরের একাধিক পর্দা বানাতে হলে সব কটির দৈর্ঘ্য ও ভাঁজ একই রকম হওয়া জরুরি। কেনা বা অর্ডার করার সময় দেখুন:
- ভাঁজ বা প্লিট সমান আছে কি না
- হেম সোজা ও মজবুত কি না
- লাইনিং কাপড়ের সাথে ঠিকমতো লাগানো আছে কি না
- সেলাইয়ের সুতা ও রিংয়ের মান কেমন
১০. নির্ভরযোগ্য দোকান বা ব্র্যান্ড বেছে নিন
সম্ভব হলে একাধিক দোকান ঘুরে দাম ও মান তুলনা করুন। সবচেয়ে কম দামই সবসময় সবচেয়ে সাশ্রয়ী নয়। ঢাকায় পর্দার দোকান অনেক, তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় যাচাই করুন:
- কাপড়ের নমুনা বাড়িতে নিয়ে দেখার সুযোগ আছে কি না
- সেলাই, ডেলিভারি ও ইনস্টলেশনের সময়সীমা পরিষ্কারভাবে জানানো হচ্ছে কি না
- দাম ও মোট খরচ আগেই লিখিতভাবে জানানো হচ্ছে কি না
- কোনো ত্রুটি থাকলে পরিবর্তন বা সংশোধনের নীতি আছে কি না
- আগের ক্রেতাদের মতামত ও কাজের নমুনা দেখা যায় কি না
কেনার আগের সংক্ষিপ্ত চেকলিস্ট
সবকিছু ঠিক থাকলে আপনার বাড়ির জন্য পছন্দের পর্দা বেছে নেওয়া অনেক সহজ হয়ে যাবে। আপনার ঘরের সাথে মানানসই কাপড় ও ডিজাইন দেখতে Curtivelle-এর কালেকশন ঘুরে দেখুন এবং আমাদের টিমের সাথে যোগাযোগ করুন।
- বাজেট ঠিক করেছি
- প্রতিটি জানালার মাপ লিখে রেখেছি
- ঘরের ব্যবহার অনুযায়ী কাপড় বেছেছি
- আলো ও গোপনীয়তার প্রয়োজন ভেবেছি
- রং ঘরের সাথে মিলিয়েছি
- রড বা ট্র্যাকের ধরন ঠিক করেছি
- সেলাই ও ডেলিভারির শর্ত জেনেছি
প্রিমিয়াম পর্দার জন্য Curtivelle-এ আসুন
আপনার ঘরের সৌন্দর্য ও আরাম বাড়াতে চাইলে মানসম্পন্ন পর্দার বিকল্প নেই। Curtivelle-এ আপনি পাবেন রুচিশীল ডিজাইন ও যত্নে তৈরি পর্দার সংগ্রহ, যা আপনার ঘরের সাথে সহজেই মানিয়ে যাবে। আপনার পছন্দের প্রিমিয়াম পর্দা খুঁজে নিতে আজই Curtivelle-এর কালেকশন ঘুরে দেখুন।
- বাছাই করা মানসম্পন্ন কাপড়ের বৈচিত্র্যময় সংগ্রহ
- আধুনিক ও ক্লাসিক, দুই ধরনের ডিজাইনের সুবিধা
- নিখুঁত সেলাই ও পরিপাটি ফিনিশিং
- ঘরের মাপ ও চাহিদা অনুযায়ী উপযুক্ত পরামর্শ
- সময়মতো ডেলিভারি ও ইনস্টলেশনের জন্য সহায়ক সেবা

